সিলেটের প্রথম শহীদ মিনারে ফুল দেয়নি কেউ

আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের প্রথম প্রহর থেকেই শহীদ মিনারমুখী মানুেষর ঢল। সকালে প্রভাত ফেরী নিয়েও শহীদ মিনারে হাজির নগরবাসী। ফুলে ফুলে ঢাকা পড়েছে সিলেট কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার।

কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের পাশাপাশি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান আর পাড়ার শহীদ মিনারেও শ্রদ্ধাঞ্জলি অর্পন করেছে নগরবাসী। তবে ব্যতিক্রম কেবল সিলেটের প্রথম শহীদ মিনার। নগরীর মদন মোহন কলেজ ক্যাম্পাসে স্থাপিত সিলেটের প্রথম এই শহীদ মিনারে এই ২১ ফেব্রুয়ারিতে ফুল দেয়নি কেউ।

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ‘নূতন কাল’ কবিতায় লিখেছিলেন- ‘একলা আমি আজও এই নতুনের ভিড়ে বেড়াই ধাক্কা খেয়ে, যেখানে আজ আছে কাল নেই।’ মাতৃভাষা দিবসে নতুনের ভিড়ে একলা হয়েই দাঁড়িয়ে ছিলো সিলেটের প্রথম শহীদ মিনার।

বৃহস্পতিবার (২১ ফেব্রুয়ারি) কলেজের শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মচারী, কলেজ ছাত্রলীগ ও সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফন্টের পক্ষ থেকে ৩টি শ্রদ্ধাঞ্জলি দেওয়া হয় কলেজের নতুন শহীদ মিনারে। পুরাতনের পাশে স্থাপিত নতুন শহীদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পণ করা হলেও পুরাতন শহীদ মিনারে কোনো পুষ্পস্তবক অর্পণ করা হয়নি। খোদ কলেজ প্রশাসনই ভুলে গেছেন পুরাতন শহীদ মিনারের কথা।

জানা যায়, ১৯৬৭ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি পুষ্পস্তবক অর্পণের মধ্য দিয়ে শহীদ মিনারের আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হয়। এরপর থেকে এ শহীদ মিনারেই নিয়মিতভাবে কলেজসহ শহরের বিভিন্ন সামাজিক, সাংস্কৃতিক, রাজনৈতিক, পেশাজীবী সংগঠন পুষ্পস্তবক অর্পণ শুরু করে। নগরের চৌহাট্টা এলাকার বর্তমান কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার প্রতিষ্ঠা হওয়ার আগ পর্যন্ত মদন মোহন কলেজের শহীদ মিনারটিই সিলেটের প্রথম কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের মর্যাদা পেয়ে আসছিল। মদন মোহন কলেজেও ২০১২ সালে আধুনিক স্থাপত্যকলা নকশায় ‘দৃষ্টিপাত’ নামে আরেকটি শহীদ মিনার ক্যাম্পাসে প্রতিষ্ঠা করা হয়।

এ ব্যাপারে মদন মোহন কলেজের ভারাপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ সর্বানী অর্জুন বলেন, প্রথম শহীদ মিনারের কথা আমরা ভুলিনি। পুরোনোটা পরিষ্কার করে রেখেছি। স্বাভাবিকভাবেই নতুন শহীদ মিনার হওয়ায় সেখানেই ফুল দেওয়া হয়। আর পুরোনোটি স্মৃতিস্মারক হিসেবে রেখে দেওয়া হয়েছে।

শেয়ার করুন