শামীমাকে নিয়ে নেদারল্যান্ডে ফিরতে চান স্বামী

যুক্তরাজ্য থেকে পালিয়ে সিরিয়ায় গিয়ে জঙ্গিগোষ্ঠী ইসলামিক স্টেটে (আইএস) যোগ দেওয়া শামীমা বেগমকে নিয়ে নেদারল্যান্ডসে ফিরে যেতে চান তার স্বামী ইয়াগো রিদাইক। ২০১৫ সালে শামীমা সিরিয়ায় আইএসের নিয়ন্ত্রিত এলাকায় যাওয়ার কিছুদিনের মধ্যে তাদের বিয়ে হয়।

বিবিসিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ইয়াগো এসব তথ্য জানান রিদাইক।

শামীমার স্বামী বলেন, তিনি আইএসের জন্য যুদ্ধ করেছেন। তবে এখন স্ত্রী ও নবজাতককে নিয়ে বাড়ি ফিরতে চান। ২৭ বছর বয়সী ইয়াগো বর্তমানে সিরিয়ায় উত্তর-পূর্বাঞ্চলে কুর্দি বাহিনীর হাতে আটক আছেন। তিনি নিজ দেশে ফিরলে সন্ত্রাসী সংগঠনে যোগ দেওয়ার দায়ে তার ছয় বছরের কারাদণ্ড হতে পারে।

বিবিসির মধ্যপ্রাচ্যবিষয়ক প্রতিবেদক কুয়েনটিন সামারভিলকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ইয়াগা বলেন, তিনি আইএসকে প্রত্যাখ্যান করেছেন। এই গোষ্ঠীকে ছেড়ে আসতে চেষ্টা করেছেন। এমনকি জঙ্গিরা তাকে ডাচ গোয়েন্দা দাবি করে রাকায় কারাবন্দী করে নির্যাতন করে।

৩৯ হাজার লোকের সঙ্গে ইয়াগো, শামীমা ও তাদের নবজাতক জারাহ সিরিয়ার উত্তরাঞ্চলে আল-হাওয়াল শরণার্থীশিবিরে এক গ্রুপ সিরিয়ান যোদ্ধাদের কাছে আত্মসমর্পণ করেন। তবে শামীমা এখন অন্য কোথাও পালিয়ে গেছেন বলে বলা হচ্ছে।

শুক্রবার শামীমার পরিবারের আইনজীবী তাসনিম আখুঞ্জির বরাত দিয়ে যুক্তরাজ্যের প্রভাবশালী পত্রিকা গার্ডিয়ান এক খবরে বলেছে, জঙ্গিদের কাছ থেকে হত্যার হুমকির পর নিজের ও নবাগত সন্তানের নিরাপত্তার কথা ভেবে সন্তানকে নিয়ে পালিয়েছেন শামীমা।

শুক্রবার ব্রিটিশ ট্যাবলয়েড সানের খবরে বলা হয়, নিজের দুর্দশার কথা প্রকাশ করায় জঙ্গিরা শামীমাকে হত্যার হুমকি দিয়েছে।

ইয়াগো বলেন, ১৫ বছর বয়সী শামীমাকে যখন তিনি বিয়ে করেন, তখন তার বয়স ছিল ২৩ বছর। আর এতে ভুল কিছু ছিল না বলে তিনি মনে করেন। কারণ, নিজের পছন্দেই তিনি এ বিয়ে করেন। কীভাবে রাকায় শামীমার সঙ্গে দেখা হয় সে বর্ণনা দেন তিনি।

শামীমার মনটা ভালো উল্লেখ করে ইয়াগো বলেন, ‘সত্যি বলতে কি, আমার এক বন্ধু এসে বলল, এখানে একটি মেয়ে আছে, যে বিয়ে করতে আগ্রহী। কিন্তু মেয়েটি ছোট, তাই আমি আগ্রহ দেখাইনি। পরে যেকোনোভাবেই হোক আমি প্রস্তাবটি গ্রহণ করি। বিয়ের বিষয়টি শামীমার নিজের সিদ্ধান্ত ছিল। সে একজন সঙ্গী খুঁজছিল। তবে শামীমার বয়স এত কম ছিল যে সে চাইলে কিছুটা অপেক্ষা করতে পারত, সে তা করেনি। সে বিয়ের সিদ্ধান্ত নেয় এবং আমি তাকে বিয়ে করি।’

পূর্ব লন্ডনের বেথনাল গ্রিন একাডেমির ছাত্রী শামীমা তার স্কুলের দুই বন্ধু খাদিজা সুলতানা ও আমিরা আবাসের সঙ্গে ২০১৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে যুক্তরাজ্য ছেড়ে যান। শামীমা সম্প্রতি তার সন্তানের স্বার্থে নিজ দেশ যুক্তরাজ্যে ফেরার আকুতি জানান। তবে ব্রিটিশ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সাজিদ জাভিদ তাকে যুক্তরাজ্যের জন্য হুমকি হিসেবে উল্লেখ করে তার ব্রিটিশ নাগরিকত্ব বাতিলের নির্দেশ দেন।

শেয়ার করুন