ডাকসু নির্বাচনে লড়ছেন কমলগঞ্জের চা শ্রমিকের সন্তান সন্তোষ

মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলার শমশেরনগর চা বাগানের দরিদ্র চা শ্রমিক পরিবারের সন্তান সন্তোষ রবিদাস। পিতৃহীন সন্তোষের লেখাপড়ার ব্যয় চলে নিজের টিউশনির আয়ের উপর। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মার্কেটিং বিভাগের চতুর্থ বর্ষের ছাত্র তিনি।

প্রাচ্যের অক্সফোর্ড নামে খ্যাত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আসন্ন ডাকসু নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে সমাজসেবা সম্পাদক পদে পিছিয়ে পড়া চা জনগোষ্ঠী থেকে অংশ নিয়ে আলোচনায় উঠে আসেন সন্তোষ রবিদাস। নির্বাচনে অংশগ্রহণের সকল প্রকার কাজ সম্পন্ন করে এখন তিনি নির্বাচনী প্রচারণায় ব্যস্ত।

সমাজে অনেকটা পিছিয়ে পড়া চা শ্রমিক সন্তানরা বুঝে একটি ভালো পরিবেশে আসতে কতটুকু কষ্ট ও সময় লাগে। এ কথা উল্লেখ করে সন্তোষ রবিদাস জানান, আমি খুব অনুভব করি এই কষ্টগুলো। আমি এখানে থেমে থাকিনি। এই ভালো পরিবেশের চূড়ায় উঠেছি ভর্তি পরীক্ষায় মেধা তালিকায় স্থান করে। লেখাপড়া করে আরো সামনের দিয়ে এগিয়ে যেতে চাই।

তিনি ডাকসু নির্বাচনে সমাজসেবা সম্পাদক পদে নির্বাচিত হলে তাদেরকে সেবা করতে চান যারা তার মতো অবহেলিত পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠী থেকে উঠে এসেছে এই সর্বোচ্চ বিদ্যাপীঠে।

সন্তোষ রবিদাস শমশেরনগর চা বাগানের প্রয়াত সত্য নারায়ণ রবিদাসের ও মা চা শ্রমিক কমলি রবিদাসের ছেলে। পরিবারের এক ভাই ও এক বোনের মধ্যে দ্বিতীয়। বর্তমানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জগন্নাথ হলের ছাত্র তিনি।

সন্তোষ বিশ্ববিদ্যালয় চা-ছাত্র সংসদের আইন বিষয়ক সম্পাদক, একটি বিদ্যার্থীর দৃষ্টি সংঘের সভাপতি, বাংলাদেশ রবিদাস ছাত্র পরিষদের দপ্তর সম্পাদক ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় আল্যামনাই-এর একজন স্বেচ্ছাসেবী সদস্য।

কমলগঞ্জের চা বাগান সমূহে নির্বাচনে সন্তোষের বিজয়ের জন্য প্রার্থনা করা হচ্ছে।

মোহন রবিদাস ও বাংলাদেশ চা শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক রামভজন কৈরী বলেন, সন্তোষ মেধায় যেভাবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে লেখাপড়ার সুযোগ করে নিয়েছে, আচরণে ও তার কর্মে সে আসন্ন ডাকসু নির্বাচনেও নির্বাচনে জয়লাভ করবে। এটা আমাদের দৃঢ় বিশ্বাস।

শেয়ার করুন