চোর চক্রের ফাঁদে বিকাশ এজেন্টরা

মোবাইল ব্যাংকিং বিকাশে টাকা পাঠাতে এজেন্টের দোকানে যায় চোর চক্রের একাধিক সদস্য। বিকাশে টাকা পাঠানোর সময় চক্রের সদস্যরা কৌশলে দেখে নেয় ওই এজেন্টের অ্যাকাউন্টের পিন নম্বর।
সেই নম্বর তারা সংরক্ষণ করে। এই দলটি ফিরে এলে নারী সদস্যসহ আরও কয়েকজন ওই বিকাশের এজেন্টের দোকানে যায়। টাকা পাঠানোর ছলে বিকাশের এজেন্টকে তারা নানাভাবে ব্যস্ত রাখে। সুযোগ বুঝে এজেন্টের মোবাইল ফোন নিয়ে তারা সটকে পড়ে। তারপর অন্য এজেন্টকে মোটা অঙ্কের কমিশন দিয়ে চুরি করা বিকাশ অ্যাকাউন্ট থেকে সব টাকা তুলে নেয়। এভাবে রাজধানী ও আশপাশের এলাকার অনেক বিকাশ এজেন্ট চুরির ফাঁদে পড়েছে। রাজধানী ও আশপাশের এলাকায় এই অভিনব কৌশলে একাধিক সংঘবদ্ধ চোর চক্র চুরি করছে।
পুলিশের বিশেষায়িত ইউনিট কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম ইউনিট (সিটিটিসি) ইউনিটের তদন্তে এমন অভিনব চুরির তথ্য বেরিয়ে এসেছে। এমন একাধিক চক্রের সন্ধানে মাঠে নেমেছে সংস্থাটি। এরই মধ্যে একটি চোর চক্রের চার সদস্যকেও গ্রেফতার করেছে বিশেষায়িত এ সংস্থার সাইবার সিকিউরিটি অ্যান্ড ক্রাইম বিভাগ।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে সিটিটিসির সাইবার সিকিউরিটি অ্যান্ড ক্রাইম বিভাগের অতিরিক্ত উপ-কমিশনার (এডিসি) নাজমুল ইসলাম যুগান্তরকে বলেন, বিকাশের এজেন্টের মোবাইল চোর চক্রের চার সদস্যকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এ চক্রটি দেশের বিভিন্ন স্থানে কৌশলে বিকাশের এজেন্টের মোবাইল ফোন চুরি করত। তাদের জিজ্ঞাসাবাদে অনেক তথ্য পাওয়া গেছে।
সিটিটিসি জানায়, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি রাতে রাজধানীর মতিঝিল ও গাজীপুর সদর থেকে বিকাশ এজেন্টের মোবাইল ফোন চুরি করে ক্যাশ আউট চক্রের ৪ সদস্যকে গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতার চারজন হল- মো. শফিকুল ইসলাম, মো. বাবুল মিয়া, মো. আকিল হাসান ওরফে আকিল ও মোছা. পপি আক্তার।
রাত সাড়ে ৯টায় প্রথমে শফিকুলকে মতিঝিলের আরামবাগ এলাকা থেকে গ্রেফতার করা হয়। তার দেয়া তথ্য অনুযায়ী গাজীপুর সদরের চেয়ারম্যানবাড়ি ও নাওজোড় এলাকায় অভিযান চালিয়ে অপর তিন সদস্য বাবুল, আকিল ও পপিকে গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতার ব্যক্তিদের বয়স ২০ থেকে ৩৫ বছর। এর মধ্যে চক্রের নারী সদস্যের বয়স ২০ বছর। মোবাইল চুরির সময় নারী সদস্য নানা কৌশলে বিকাশ এজেন্টকে ব্যস্ত রাখত। সেই সময় চোর চক্রের অন্য সদস্যরা এজেন্টের মোবাইল ফোনটি ছিনিয়ে নিত। চক্রের সদস্যদের বিরুদ্ধে মতিঝিল থানায় ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলা করা হয়েছে।
সিটিটিসির একজন কর্মকর্তা জানান, বিকাশ এজেন্টদের ফাঁদে ফেলতে চক্রে নারী সদস্য রাখা হয়েছে। নারী সদস্য যখন কথার ছলে বিকাশ এজেন্টকে ব্যস্ত রাখে তখনই মোবাইল ফোনটি চক্রের অন্য সদস্যরা হাতিয়ে নেয়। ই চক্রের সঙ্গে অন্য বিকাশ এজেন্টও রয়েছে। চুরি করা মোবাইল ফোন থেকে ক্যাশ আউটের সঙ্গে তারা জড়িত।
এর বিনিময়ে ওই এজেন্টরা মোটা অঙ্কের কমিশন পায়। এ ধরনের আরও কয়েকটি চক্রের বিষয়ে অনুসন্ধান চলছে। এর আগে মিরপুর থেকেও এ ধরনের একটি চক্রকে গ্রেফতার করেছিল থানা পুলিশ। এ ধরনের চুরি এড়াতে বিকাশ এজেন্টদের আরও সতর্ক হওয়ার কথা বলছে সিটিটিসি। সংস্থাটি বলছে, বিকাশে টাকা পাঠানোর সময় পিন নম্বরটি যেন কেউ দেখতে না পারে এটা এজেন্টকে নিশ্চিত করতে হবে। পাশাপাশি ব্যবহৃত মোবাইল ফোনটি সাবধানে রাখতে হবে।

শেয়ার করুন