মুখ ঢাকা পোশাক নিষিদ্ধ শ্রীলঙ্কায়

আত্মঘাতী হামলায় তিনশতাধিক লোকের প্রাণহানির পর শ্রীলঙ্কাজুড়ে জারি করা জরুরি অবস্থার মধ্যে সব ধরনের মুখ ঢাকা পোশাক নিষিদ্ধ করেছে দেশটির সরকার।

বিবিসি জানিয়েছে, সোমবার থেকেই এই সিদ্ধান্ত কার্যকর করা হয়েছে বলে শ্রীলঙ্কার প্রেসিডেন্ট মাইথ্রিপালা সিরিসেনা জানিয়েছেন।

প্রেসিডেন্ট দপ্তরের এক বিবৃতিতে বলা হয়, পরিচয় প্রকাশে বাধা সৃষ্টি করে- এরকম সব ধরনের মুখ ঢাকা পোশাক জরুরি বিধির আওতায় জাতীয় নিরাপত্তার স্বার্থে নিষিদ্ধ করা হল।

বিবিসি বলছে, প্রেসিডেন্টের আদেশে বোরখা, নেকাব বা হিজাবের কথা আলাদাভাবে উল্লেখ করা না হলেও মূলত ওই ধরনের মুখ ঢাকা পরিধেয় বন্ধেই এ নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে।

শ্রীলঙ্কার দুই কোটি বিশ লাখ জনসংখ্যার মোটামুটি ৭০ শতাংশ বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বী। আর মুসলমানেরসংখ্যা ১০ শতাংশের মত। মুসলমান নারীদের মধ্যে খুবই ক্ষুদ্র একটি অংশ সেখানে বোরখা বা নেকাব ব্যবহার করেন বলে তথ্য দিয়েছে বিবিসি।

ইস্টার সানডের হামলার ঘটনায় মুসলিম জঙ্গিদের জড়িত থাকার তথ্য মেলায় এবং অন্তত একজন নারী ওই হামলায় অংশ নেওয়ায় গত সপ্তাহে সব ধরনের মুখ ঢাকা পোশাক নিষিদ্ধ করার দাবি পার্লামেন্টে তোলেন একজন এমপি।

পাশাপাশি অল সিলন জমিয়াতুল উলামা নামে একটি মুসলিম সংগঠনের পক্ষ থেকেও মুসলমান নারীদের মুখ ঢাকা বোরখা বা নেকাব ব্যবহার না করার পারমর্শ দেওয়া হয়।

গত ২১ এপ্রিল ইস্টার সানডের দিন শ্রীলঙ্কার তিনটি গির্জা ও চারটি হোটেলসহ আট জায়গায় একযোগে আত্মঘাতী বোমা হামলা চালানো হয়, যাতে নিহত হন ৩৫৯ জন। মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক জঙ্গি দল আইএস ওই হামলার দায় স্বীকার করেছে। তবে শ্রীলঙ্কা সরকারের ধারণা, স্থানীয় মুসলিম জঙ্গি দল ন্যাশনাল তাওহীদ জামায়াত (এনটিজে) ও জমিয়াতুল মিল্লাতু ইব্রাহিম-জেএমআই কোনো বিদেশি জঙ্গি দলের সহায়তায় ওই হামলা চালিয়েছে।

ওই হামলার ঘটনায় জড়িত সন্দেহে এ পর্যন্ত দেড় শতাধিক লোককে গ্রেপ্তার করেছে শ্রীলঙ্কার পুলিশ। জরুরি অবস্থার মধ্যে বিভিন্ন স্থানে প্রতিদিনই পুলিশ ও সেনাবাহিনীর অভিযান চলছে। তবে যুক্তরাষ্ট্রসহ বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থা আরও হামলার শঙ্কার তথা জানানোয় ভারত মহাসাগরের এই দ্বীপ দেশে জারি রয়েছে সর্বোচ্চ সতর্কতা।

শেয়ার করুন