বিএনপির আগের সিদ্ধান্ত সঠিক ছিল না: ফখরুল

দলের নির্বাচিত সংসদ সদস্যদের শপথ নেওয়ার প্রসঙ্গ টেনে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, আমাদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান সঠিক সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তবে আমরা অতীতে বলেছিলাম, আমরা (সংসদে) যাবো না। ওই মুহূর্তে সেই সিদ্ধান্ত আমাদের (বিএনপির) সঠিক ছিল না।

রবিবার (৫ মে) জাতীয় প্রেস ক্লাবে সম্মিলিত ছাত্রফোরাম আয়োজিত এক স্মরণসভায় তিনি এসব কথা বলেন। ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি নাসির উদ্দিন আহমেদ পিন্টুর চতুর্থ শাহাদাৎবার্ষিকী উপলক্ষে এ সভায় নেতাকর্মীদের উদ্দেশ করে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, ‘শুধু সস্তা স্লোগান দিয়ে কথা বললে চলবে না। সঠিক সিদ্ধান্ত নিয়েছেন আমাদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান। কারণ, আমাদের দুই দিকেই লড়াইটা করতে হবে। ভেতরে থেকেও কথা বলতে হবে এবং বাইরে থেকেও কথা বলতে হবে— এটা সঠিক সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। আমরা অতীতে বলেছিলাম, আমরা (সংসদ) যাবো না। ওই মুহূর্তে সেই সিদ্ধান্ত আমাদের সঠিক ছিল না— এটা বলতে আমার কোনও দ্বিধা নেই। লড়াইটা করতে হবে। আপনাকে সব জায়গা থেকে লড়াই করতে হবে। সংগ্রাম করতে হবে। এজন্য পথ তৈরি করে দিতে হবে।’

কারাগারের ভেতরে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার স্বাস্থ্যের ক্ষতি হলে তার দায়-দায়িত্ব সরকারকেই বহন করতে হবে বলেও হুঁশিয়ারি করেন তিনি।

বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য আবু নাসের মুহাম্মদ রহমাতুল্লাহ বলেন, ‘মির্জা ফখরুল যদি নেতাকর্মীদের সঠিক নেতৃত্ব দেন, তাহলে পিন্টুর মতো অনেক নেতা তৈরি হবে।’

তার এই বক্তব্যের জবাবে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘নেতাদের বলবো— এসব কথা দলীয় ফোরামে বলবেন। বাইরে দলের বিষয়ে যত কম কথা বলবেন, তত মঙ্গলজনক হবে। তবে আমাদের দল ঐক্যবদ্ধ আছে। কোনও সমস্যা নেই।’

তিনি বলেন, ‘দেশে গণতন্ত্র নেই। আওয়ামী লীগ গণতান্ত্রিক শক্তি নয়। আওয়ামী লীগ মুখে গণতন্ত্রের কথা বলে, কিন্তু তার উল্টোটা বিশ্বাস করে। আওয়ামী লীগ একমাত্র দল, যারা ৭৫ সালে সব দল নিষিদ্ধ এবং পত্রিকাগুলো বন্ধ করে দিয়ে একদলীয় শাসন বাকশাল প্রতিষ্ঠিত করেছিল। আজ আবারও সেই দল দীর্ঘ ১০ বছর ধরে বাংলাদেশের মানুষের অধিকারগুলো হরণ করে নিয়েছে। মানুষের ওপর নির্যাতন ও নিপীড়ন করছে এবং গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে ধ্বংস করে দিয়েছে।’

বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘আজ বিচার ব্যবস্থা, আইন এবং নির্বাচন কমিশনকে সম্পূর্ণ দলীয়করণ করা হয়েছে। এছাড়া, গণমাধ্যমকে নিয়ন্ত্রণে নিয়েছে। তারা বলে দেন কারা কথা বলবেন, কারা কথা বলবেন না। কোন খবর পত্রিকায় আসবে, কোনটা আসবে না। সুতরাং, এখানে গণতন্ত্র কাজ করতে পারে না।’

পিন্টুর স্মৃতিচারণ করে তিনি বলেন, ‘পিন্টু এমনি মারা যাননি, তাকে হত্যা করা হয়েছে। অত্যন্ত সুপরিকল্পিতাবে বিনা চিকিৎসায় তাকে হত্যা করা হয়েছে।’

আয়োজক সংগঠনের আহ্বায়ক নাহিদুল ইসলাম নাহিদের সভাপতিত্বে সভায় বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু, প্রচার সম্পাদক শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানী প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।

শেয়ার করুন